ভূমি উন্নয়ন কর ও দাখিলা: কেন প্রতি বছর দিতে হয়
দাখিলা কেবল করের রসিদ নয় — এটি দখল ও মালিকানার ধারাবাহিক প্রমাণ। বছরের পর বছর খাজনা না দিলে জমি বিক্রি, ঋণ ও নামজারিতে সমস্যা তৈরি হয়।
ভূমি উন্নয়ন কর, প্রচলিত ভাষায় খাজনা, হলো জমির মালিকের বার্ষিক সরকারি দেয়। যে রসিদ দিয়ে এই কর পরিশোধের প্রমাণ মেলে, সেটিই দাখিলা। অনেকে একে নিছক আনুষ্ঠানিকতা মনে করেন, অথচ ব্যবহারিকভাবে দাখিলা জমির সবচেয়ে বেশি চাওয়া কাগজগুলোর একটি।
দাখিলা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- ধারাবাহিক দাখিলা দেখায় যে জমিটি আপনার নামে রেকর্ডভুক্ত এবং আপনি তা ভোগদখল করছেন।
- নামজারির আবেদনে হালনাগাদ দাখিলা প্রায় সব সময় চাওয়া হয়।
- জমি বিক্রির সময় ক্রেতা ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সর্বশেষ দাখিলা দেখতে চায়।
- ব্যাংক ঋণ বা বন্ধকের কাগজপত্রে এটি প্রয়োজনীয় নথি।
- সীমানা বা দখল নিয়ে বিরোধে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক দাখিলা সহায়ক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কর কীসের ওপর নির্ভর করে
ভূমি উন্নয়ন করের হার জমির শ্রেণি ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। কৃষিজমি ও অকৃষি জমির হার আলাদা; অকৃষি জমির ক্ষেত্রে আবার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প ব্যবহারে হার ভিন্ন হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত কৃষিজমির ক্ষেত্রে অব্যাহতির বিধানও রয়েছে, যদিও সেক্ষেত্রেও নির্ধারিত নামমাত্র ফি দিয়ে দাখিলা নিতে হয় — কারণ রসিদটিই মূল্যবান।
সঠিক হার ও অব্যাহতির সীমা সরকারি আদেশে পরিবর্তিত হয়। তাই পরিশোধের সময় পোর্টালে বা ভূমি অফিসে প্রদর্শিত হালনাগাদ হিসাবটিই চূড়ান্ত ধরুন।
অনলাইনে পরিশোধের ধাপ
- পোর্টালে নিবন্ধন
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি উন্নয়ন কর সেবায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন। মোবাইল নম্বরে ওটিপি আসবে।
- হোল্ডিং যুক্ত করুন
বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা ও খতিয়ান নম্বর দিয়ে আপনার হোল্ডিং খুঁজে নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করুন।
- তথ্য যাচাই
হোল্ডিংয়ের মালিকের নাম, দাগ ও জমির পরিমাণ মিলিয়ে দেখুন। গরমিল থাকলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংশোধনের আবেদন করুন।
- দেয় নিরূপণ
সিস্টেম চলতি বছরের কর ও কোনো বকেয়া থাকলে তা দেখাবে।
- পেমেন্ট
মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে পরিশোধ করুন।
- দাখিলা ডাউনলোড
পরিশোধের পর ডিজিটাল দাখিলা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন এবং একটি প্রিন্ট রেখে দিন।
সাধারণ সমস্যা
হোল্ডিং খুঁজে পাচ্ছি না।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারণ হলো জমি এখনো আপনার নামে নামজারি হয়নি, অথবা মৌজা/খতিয়ান নম্বরে ভুল হচ্ছে। পুরোনো দাখিলা দেখে নম্বরগুলো মিলিয়ে নিন; তাতেও না হলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।
কয়েক বছরের খাজনা বকেয়া, এখন কী হবে?
বকেয়া কর জরিমানাসহ একসঙ্গে পরিশোধ করা যায়। বকেয়া থাকা অবস্থায় নামজারি বা বিক্রিতে জটিলতা হয়, তাই আগে বকেয়া নিষ্পত্তি করে নেওয়াই ভালো।
জমি কিনেছি কিন্তু নামজারি হয়নি — খাজনা কার নামে দেব?
নামজারি না হওয়া পর্যন্ত রেকর্ড আগের মালিকের নামেই থাকে। তাই আগে নামজারি সম্পন্ন করুন, তারপর নিজের নামে দাখিলা নিন।
দাখিলার তথ্যে ভুল আছে।
নাম, দাগ বা জমির পরিমাণে ভুল থাকলে সহায়ক কাগজপত্রসহ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংশোধনের আবেদন করুন। ভুল দাখিলা পরে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
অনলাইনে দেওয়া দাখিলা কি বৈধ?
হ্যাঁ, সরকারি পোর্টাল থেকে নেওয়া ডিজিটাল দাখিলা বৈধ রসিদ। যাচাইয়ের জন্য এতে কিউআর কোড বা যাচাই নম্বর থাকে।
হোল্ডিং যুক্ত করতে খতিয়ান নম্বর লাগবে — অনলাইনে মৌজা ধরে খুঁজে নিন।
খতিয়ান নম্বর খুঁজে নিন