উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা এড়াতে কী করবেন?
দলিল, খতিয়ান, নামজারি, কর, দখল এবং সকল সরকারি রেকর্ড যাচাই করে লেনদেন করুন।
পৃষ্ঠা 5 / 15
দলিল, খতিয়ান, নামজারি, কর, দখল এবং সকল সরকারি রেকর্ড যাচাই করে লেনদেন করুন।
অভিজ্ঞ আইনজীবী, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে আইনগত পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনে আদালতের আদেশ যাচাই করা উচিত।
বাংলাদেশের প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইন অনুসরণ করে সকল বৈধ উত্তরাধিকারীকে শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় সরকারি নথি যাচাই করা, ঋণ ও বৈধ ওসিয়তের বিষয় নিষ্পত্তি করা, লিখিতভাবে বণ্টন সম্পন্ন করা এবং সরকারি রেকর্ডে নামজারি হালনাগাদ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয়।
উত্তরাধিকার হলো কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর তার রেখে যাওয়া সম্পদ আইন অনুযায়ী বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে মুসলিমদের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ ব্যক্তিগত আইন প্রযোজ্য হয়।
প্রথমে মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের ব্যয়, বৈধ ঋণ পরিশোধ এবং বৈধ উইল (যদি থাকে) কার্যকর করতে হয়। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
মৃত্যু সনদ মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সরকারি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকাংশ প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রমে এটি প্রয়োজন হয়।
ওয়ারিশ সনদ হলো একটি সরকারি প্রত্যয়নপত্র, যেখানে মৃত ব্যক্তির বৈধ উত্তরাধিকারীদের নাম ও সম্পর্ক উল্লেখ থাকে।
গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ এবং শহর এলাকায় পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করা যায়।
হ্যাঁ। বৈধ ঋণ পরিশোধের পরই অবশিষ্ট সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
না। একই স্তরের উত্তরাধিকারী হলে সাধারণভাবে একজন ছেলে একজন মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায়।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, একমাত্র কন্যা সন্তান থাকলে তিনি নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী মোট সম্পত্তির অর্ধেক (১/২) অংশ পান।
যদি কোনো পুত্র সন্তান না থাকে, তাহলে একাধিক কন্যা সন্তান সম্মিলিতভাবে মোট সম্পত্তির ২/৩ অংশ পান।
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির ১/৮ অংশ পান।
মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকলে স্ত্রী সাধারণভাবে মোট সম্পত্তির ১/৪ অংশ পান।
মৃত স্ত্রীর সন্তান থাকলে স্বামী মোট সম্পত্তির ১/৪ অংশ পান।
মৃত স্ত্রীর কোনো সন্তান না থাকলে স্বামী মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পান।
মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মা সাধারণভাবে মোট সম্পত্তির ১/৬ অংশ পান।
মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে বাবা সাধারণভাবে মোট সম্পত্তির ১/৬ অংশ পান। পরিস্থিতিভেদে অবশিষ্ট সম্পত্তিতেও বাবার অধিকার থাকতে পারে।
মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারির কাগজ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য নথি লাগতে পারে।
হ্যাঁ। সকল বৈধ উত্তরাধিকারীর সম্মতিতে আইন অনুযায়ী পারিবারিকভাবে সম্পত্তি ভাগ করা যেতে পারে।
প্রথমে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। সমাধান না হলে দেওয়ানি আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে।
হ্যাঁ। উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার পর সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করার জন্য নামজারি করা উচিত।
মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, দলিল, খতিয়ান, ঋণের অবস্থা এবং আইন অনুযায়ী প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর অংশ সঠিকভাবে যাচাই করে প্রয়োজনে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।